ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ

বর্তমান সময়ে অন্যতম জনপ্রিয় ফল ড্রাগন। ড্রাগন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল।মেক্সিকো মধ্য আমেরিকার স্থানীয় হাইল্লোরিয়াস ক্যাকটাস উদ্ভিদে জন্মায়। তবে এখন সারাবিশ্বে এটি সহজলভ্য। আমাদের দেশেও এর চাষ হচ্ছে। বাহ্যিক অবয়বে ড্রাগন এর সাথে সাদৃশ্য থাকায় একে ড্রাগন ফল বলা হয়ে থাকে। ড্রাগন ফল, Pitahaya বা Strawberry Pear নামে ও পরিচিত।এটি অনেকটা কিউই এবং নাশপতির মত সামান্য মিষ্টি স্বাদ বিশিষ্ট।ড্রাগন এর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য এর প্রতি আকর্ষণের অন্যতম একটি কারণ। এর পুষ্টিগুণের জন্য এটি স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে জনপ্রিয়।
হৃদরোগ,ডায়াবেটিস, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি ঝুঁকিপূর্ণ রোগ এর ঝুঁকি কমাতে সক্ষম এই ড্রাগন ফল।



পুষ্টি উপাদান এবং স্বাস্থ্যের উপর প্রভাবঃ
ড্রাগন ফল, কম ক্যালরিযুক্ত তবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়। এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে।
এক কাপ পরিমাণ(২২৭ গ্রাম) ড্রাগন ফলে-
ক্যালোরি ১৩৬,
প্রোটিন প্রায় ৩ গ্রাম,
কার্বোহাইড্রেট প্রায় ২৯ গ্রাম,
ফাইবার প্রায় ৭ গ্রাম ,
আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি এবং ই পাওয়া যায়।এছাড়াও উপকারী উদ্ভিদ যৌগ, যেমন-পলিফেনলস, ক্যারোটিনয়েডস এবং বিটাসায়ানিনস রয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী রোগের সাথে লড়াই করতে সহায়তা করেঃ
ড্রাগন ফলে বিভিন্ন ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
যা শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল গুলিকে নিরপেক্ষ করতে কাজ করে এবং কোষের ক্ষতি ও প্রদাহ রোধ করে।গবেষণায় দেখা গেছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উচ্চমাত্রা হৃদরোগ ,ক্যান্সার ,ডায়াবেটিস এবং আর্থ্রাইটিস এর মত দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ড্রাগন ফলে,পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার রোধে সহায়ক।
টেস্ট-টিউব গবেষণা বলছে ড্রাগন ফলে প্রাপ্ত , betalains অক্সিডেটিভ স্ট্রেস রোধে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
ড্রাগন ফলে বিদ্যমান ক্যারোটিনয়েডস (বিটা ক্যারোটিন এবং লাইকোপিন) হ’ল উদ্ভিদ রন্জক, যা ড্রাগন ফলকে তার(লাল/হলুদ) উজ্জল রঙ দেয়। লাল পাল্প বিশিষ্ট ড্রাগন ফলে বিদ্যমান, বিটা ক্যারোটিন ক্যান্সার এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করেঃ
শ্বেত রক্তকণিকা ফ্রিরেডিকেল এর উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। ড্রাগন ফলে প্রাপ্ত ভিটামিন সি এবং ক্যারোটিনয়েডস গুলো ফ্রিরেডিকেল ক্ষতি থেকে শ্বেত রক্তকণিকা কে রক্ষা করে।ফলে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণেঃ
ড্রাগন ফলে প্রাপ্ত ডায়েটারি ফাইবার ,দৈনিক ডায়েটারি ফাইবার এর চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এবং কোলন ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারে। ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
আন্ত্রিক অবস্থা উন্নত করেঃ
ড্রাগন ফল এর ডায়েটারি ফাইবার অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়।
আমাদের অন্ত্রে ৪০০ টিরও বেশি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া সহ প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন বিবিধ জীবাণু রয়েছে।ড্রাগন ফলের প্রাক-জৈবিক উপাদান রয়েছে যা আমাদের অন্ত্রে ভাল ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যকে উন্নত করতে পারে।
প্রিবায়োটিকগুলি একটি নির্দিষ্ট ধরণের ফাইবার যা আমাদের অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়।
এই ফাইবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রে হজম হয়না। কিন্তু পরিপাকতন্ত্রে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়াগুলো, এগুলো হজম করে নিজেদের বৃদ্ধি ঘটায়।
বিশেষ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকটেরিয়া (ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়া)-এর বৃদ্ধি ঘটে। যার ফলে পরিপাক-শোষন ক্রিয়া ভালো থাকে। অন্ত্রের অবস্থা উন্নত হয়। এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
আয়রনের ঘাটতি পূরণ করেঃ
ধারণা করা হয় বিশ্বের প্রায় ৩0% জনসংখ্যা লৌহের অভাবে ভুগছে। এক্ষেত্রে তাদের লৌহসমৃদ্ধ খাদ্য জরুরী। তবে লৌহ সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মাংস, শিম ,বাদাম ইত্যাদি গ্রহণ করেও ভিটামিন সি এর অভাবে আয়রন শোষিত হয় না , বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লৌহের অভাব পূরণ করা সম্ভব হয়না। কিন্তু ড্রাগন ফলে আয়রন এবং ভিটামিন সি একই সাথে উপস্থিত থাকায়, আয়রন সহজে শোষিত হয়। তাই ড্রাগন ফল, আয়রনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে, খাদ্যতালিকায় রেখে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎসঃ
দৈনিক গড়ে ২৪ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম আমাদের দেহে প্রয়োজন হয়, যা এক কাপ পরিবেশন ড্রাগন ফল হতে পাওয়া সম্ভব।
প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়, যা প্রতিটি কোষে উপস্থিত থাকে এবং আমাদের দেহের মধ্যে ৬০০ টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়।যেমন-শক্তিতে খাদ্যের ভাঙ্গন, পেশী সংকোচন, হাড়ের গঠন এবং এমনকি ডিএনএ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়াগুলিতে অংশ নেয়।

অনেক ক্ষেত্রে ধারণা করা হয়, ম্যাগনেসিয়াম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়নি । তবে, কিছু ক্ষেত্রে এলারজি সমস্যা দেখা যায় ।

2 thoughts on “ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *